কবিতায় বাঙালির মুক্তি আকাঙ্খা Reviewed by Momizat on . পাকিস্তান সৃষ্টির অল্পপরেই বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি শাসকদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ, অর্থনৈতিক শোষণ এবং রাজনৈতিক শাসনের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠছিল তা পাকিস্তান সৃষ্টির অল্পপরেই বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি শাসকদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ, অর্থনৈতিক শোষণ এবং রাজনৈতিক শাসনের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠছিল তা Rating: 0
You Are Here: Home » কালস্রোত » কবিতায় বাঙালির মুক্তি আকাঙ্খা

কবিতায় বাঙালির মুক্তি আকাঙ্খা

কবিতায় বাঙালির মুক্তি আকাঙ্খা

পাকিস্তান সৃষ্টির অল্পপরেই বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি শাসকদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ, অর্থনৈতিক শোষণ এবং রাজনৈতিক শাসনের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠছিল তাতে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এ জাতীয়তাবোধে উত্তাল রাজনৈতিক ঢেউ আছড়ে পড়ছিল বাংলা কবিতায়। এসময় বাংলা কবিতাও তাই ভাব ও ভাবনায় এবং নতুন আঙ্গিকের দিকে বাঁক নেয়। এ সম্পর্কে হুমায়ুন আজাদের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন,‘‘সাতচল্লিশ-একান্ন পর্বের পাকিস্তানিবাদী কবিতাকে প্রত্যাখ্যান করে বিকশিত হয় বাংলাদেশের কবিতা; আর এ জীবন ও সমাজব্যবস্থাকে অস্বীকার ও বাধ্যতামূলকভাবে স্বীকার করে এগোয় আমাদের জীবন ও সমাজ এবং পাকিস্তানকে পুরোপুরি বর্জন করে উদ্ভূত হয় বাংলাদেশ”( ভাষা আন্দোলনের সাহিত্যিক পটভূমি; পৃ.২২)

পঞ্চাশের দশকে বাংলা কবিতায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, সমাজ ও ঐতিহ্যনিষ্ঠতা, আবহমান বাঙলা ও বাঙালির লোকাচার, গ্রামীণ ও নিসর্গপ্রীতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে রোমান্টিকতা মিশ্রিত আবহ থাকলেও ষাটের দশকে অত্যধিক রাজনীতিমনস্কতা পরিলক্ষিত হয়। এ দশকটি রাজনৈতিকভাবে সংকটময় এবং সাহিত্যের ক্ষেত্রে খুবই তাৎপর্যময়। সামরিক শাসন শুধু রাজনীতি নয়, সমাজ ও সাহিত্যকেও শাসন করতে উদ্যত ছিল। অসামপ্রদায়িকতা, ধর্মনিরেপেক্ষতা বাঙালি সংস্কৃতির চারিত্র্য বৈশিষ্ট্যে পাকিস্তানিরা ঢুকাতে চেয়েছে সামপ্রদায়িকতার বীজ। এসময় কবি-সাহিত্যিকদের একাংশও ‘জাতীয় সংহতি’ বা নিজ স্বার্থে হোক পাকিস্তানি শাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ঐ রাষ্ট্রকে সংহত করার চেষ্টা করেছিলেন। এভাবে শাসকরাও তাদের শাসনকে দীর্ঘায়িত এবং স্থায়ী করার কৌশল অবলম্বন করে। তারা প্রশ্নহীন সাংস্কৃতিক আনুগত্যকে পরিবর্তন করে পরাশ্রিত ও বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এ বৈরী ও বিরূপ পরিবেশে সাহসী উচ্চারণ ধ্বনিত হয়েছে সিকান্দার আবু জাফরের কণ্ঠে,‘তুমি আমার আকাশ থেকে/সরাও তোমার ছায়া/ তুমি বাঙলা ছাড়ো, বাঙলা ছাড়ো।’’ সে সময়ের বাংলাদেশের কবিতা মূলধারা এ জনআকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে অগ্রসর হচ্ছিল। ফলে এ সময়ের কবিতার মধ্যে যে দাঢ্যতা, বক্তব্যের মধ্যে যে ঋজুতা এবং কবির মধ্যে যে আত্মপ্রত্যয় -তা বাংলা কবিতাকে দেয় বলিষ্ঠতা। শামসুর রাহমান ‘‘রূপালি স্নান’’-এর মায়াময় রোমান্টিকতার আকাশ বিহার থেকে ফিরে আসেন বিরূপ, প্রতিকূল এবং সংকটাকীর্ণ ‘নিজ বাসভূমে’।

তবে এ সময়ে প্রতিনিধিত্বশীল প্রগতিশীল কবিদের চেতনার জগতে কোন দ্বিধা ছিল না। বরং তাঁরা আরো শিকড়সংলগ্ন হয়েছে। স্বাধীনতা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে কবিরা কখনো প্রতীকী ব্যঞ্জনায়, কখনো রূপকের আড়ালে কখনো-বা সরাসরি বক্তব্যে এ অবরুদ্ধ সময়ের অবসান কামনা করেছেন। কারণ শৈল্পিক মনের মুক্তির পূর্বশর্তও রাজনৈতিক অবরুদ্ধতার অবসান- ‘‘প্রেম অবারিত হবে বিজয়ের ধরাতলে রৌদ্র জোছনা।’’(তোমার আপন পতাকা, হাসান হাফিজুর রহমান)।

আল মাহমুদের কবিতা প্রেম-স্বাধীনতা-স্বপ্ন-বিপ্লব হাত ধরাধরি করে চলেছে। তিনি শুধু স্বাধীনতা নন, ‘লোকধর্ম আর ভেদাভেদ’ অবসান হেতু শ্রেণীরও উচ্ছেদ কামনা করেছেন। সৈয়দ শামসুল হক আরো শিকড়সংলগ্ন হলেন। লিখলেন, ‘বৈশাখে রচিত পংক্তিমালা।’ স্বাধীনতা প্রাপ্তির পূর্ববর্তী এ কবিরা ছিলেন আত্মপরিচয়ে মীমাংসিত জাতীয়তাবোধে আত্মপ্রত্যয়ী এবং এ প্রত্যয় একটি রাজনৈতিক মীমাংসার দিকে অগ্রসরমান। মার্চের প্রথম সপ্তাহে যখন আলোচনা এবং সমঝোতার শেষ চেষ্টাও ভেস্তে যায় তখনই এ সত্য সামনে চলে এসেছে যে বাংলাদেশ স্বাধীনতার জন্য একটি সশস্ত্র যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে। সেখানে কোন দ্বিধা নেই, নেই কোন সংশয় বা শংকা। তবে প্রত্যয় আছে সংগ্রামের অনিবার্য বিজয় অর্জনের এবং এ আকাঙ্ক্ষার অনিবার্য চূড়ান্ত রূপ একাত্তরের ‘শ্রেষ্ঠতম ঘটনা’- মহান মুক্তিযুদ্ধ। এ যুদ্ধ চলাকালেই বাংলা কবিতায় ধ্বনিত হয়েছে এ রকম আত্মপ্রত্যয়ী উচ্চারণ-‘‘পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে জ্বলন্ত/ ঘোষণার ধ্বনি প্রতিধ্বনি তুলে,/ নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক/ এই বাঙলায়/ তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।” (তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা, শামসুর রাহমান)।


About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7529

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top