এ সপ্তাহের গল্প : দূরবর্তি এক সৌধ Reviewed by Momizat on . ইয়াসির আজিজ (এক) মমতাজের প্রেমে পড়লাম আমি। মমতাজ অসম্ভব সুন্দরী, কিন্তু সে বিবাহিতা। পরকীয়া প্রেমের ব্যাপারে অনেক কবি সাহিত্যিকই সাফাই গেয়েছেন, মমতাজের সঙ্গে গল ইয়াসির আজিজ (এক) মমতাজের প্রেমে পড়লাম আমি। মমতাজ অসম্ভব সুন্দরী, কিন্তু সে বিবাহিতা। পরকীয়া প্রেমের ব্যাপারে অনেক কবি সাহিত্যিকই সাফাই গেয়েছেন, মমতাজের সঙ্গে গল Rating: 0
You Are Here: Home » কালস্রোত » এ সপ্তাহের গল্প : দূরবর্তি এক সৌধ

এ সপ্তাহের গল্প : দূরবর্তি এক সৌধ

ইয়াসির আজিজ

(এক)
মমতাজের প্রেমে পড়লাম আমি। মমতাজ অসম্ভব সুন্দরী, কিন্তু সে বিবাহিতা। পরকীয়া প্রেমের ব্যাপারে অনেক কবি সাহিত্যিকই সাফাই গেয়েছেন, মমতাজের সঙ্গে গল্প করতে করতে আমি নানাভাবে বিষয়টিকে টেনে আনি এবং বুঝি যে এ ব্যাপারে সে কিছুটা উৎসাহীই। মমতাজ কবিতা লেখে, ওর স্বামী শাহজাহানও কবিতা লেখে। কবিতার প্রতি ভালোবাসা এক অদৃশ্য বন্ধন তৈরি করে, আমরা কজন কবি সেই বন্ধনকে উপলব্ধি করি যথেষ্ঠই। বিষয়টিকে মাটির গভীরে বটগাছের শিকড় ছড়ানোর সঙ্গে তুলনা করা যায় এবং আমার মতো একজন অবিবাহিত ও ভবঘুরে স্বভাবের কবির প্রতি মমতাজের মনে অনেকখানি প্রশ্রয়ের ভূমি তৈরিই থাকে, ফলে আমরা সহজেই কাছাকাছি চলে আসতে পারি।

মমতাজ কবিতা লেখে। কিন্তু খুব একটা সিরিয়াসভাবে লেখে না, ফলে কবিতার পরিমন্ডলে খুব একটা নাম করতে পারেনি। আমি ওকে কবির অবয়বে দেখি না, বরং ও যে কবিতা লেখার এক মহৎ অনুপ্রেরণা এটা ধরে ফেলি। এছাড়া ওর সৌন্দর্য ও স্টাইলই ওর প্রতি আমার বিমুগ্ধতার মূল কারণ বলে প্রতিভাত হয়।
প্রায়শই মনে হয় ও যেন কোন বেস্ট সেলার ইংরেজি নভেলের পেপারব্যাক বইয়ের প্রচ্ছদের নারী।
বিষয়টি বেশ মজাদার মনে হয় আমার কাছে। কিন্তু আমি ওকে এ ব্যাপারটা কখনোই বলিনি, এই মজাটা আমি একা একা উপভোগ করি ভেতরের সত্তায়। ওকে দেখে হঠাৎ হঠাৎ মনে হয় ও আমার বিখ্যাত কোন উপন্যাসের নায়িকা। কিন্তু আদতে সেই উপন্যাসটি আমি লিখিনি, তবে অচিরেই লিখব, আর এই লেখার জন্যও ওর সহযোগিতা আমার প্রয়োজন।

ও যখন আমার সম্মুখে হেঁটে আসে, সুন্দর ভঙ্গিতে তাকায়, হাসে, তখন আমি বেস্ট সেলার সব নভেলের প্রচ্ছদ দেখি কল্পনার চোখে। আর এটাও বিশ্বাস করারই মতো যে ও এমনিতেও চমৎকার এক বইই। এবং বইটি আমার অপঠিত। প্রচ্ছদে নায়িকার সুন্দর মুখের ছবি দেখতে দেখতে না পড়েও কত বই পড়া হয়ে যায়, অবশ্য একই সঙ্গে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবতে হয় সেসব পড়া পূর্ণাঙ্গ পড়া নয়। মমতাজকে তো প্রতিদিনই পাঠ করে ওর স্বামী। একটি বই একই সময়ে দুজন মিলেও পাঠ করা যায়- কিন্তু শাহজাহানের সঙ্গে আমার অতটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নয় যে দুই বন্ধু বেশ জমিয়ে পাঠ করবো বইটি, এরকম ভাবা যাবে। কাজেই বইটির কথা আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই ভুলে যাই, আমার কোন উপন্যাস লেখায় হাত দেওয়া হয়ে ওঠে না। কিন্তু আমি আমার কবিতা বিষয়ে কথা বলি মমতাজের সঙ্গে। কখনো কখনো কোন সাহিত্য পত্রিকায় আমার কোন রোমান্টিক ধরনের গল্প ছাপা হলে পত্রিকাটি আমি ওকে দিই, বলি যে গল্পটি পড়ে আমাকে বলো কেমন লাগলো। ও ভালো সৃষ্টি বোঝে। আমি জানি আমাকে খুশি করার জন্য নয়, সত্যি সত্যি ভালো লাগে বলেই প্রশংসা করে অকৃপণভাবে।

মমতাজের সঙ্গে প্রেম করাটা যদি একটা জুয়া খেলা হয় তবে এক্ষেত্রে আমি জানি যে আমার লেখা বেশ দামি তাস। টেক্কা না হলেও কিং বা কুইন পর্যায়ের। তিন তাসের খেলায় আমি তিনটি কিং পেয়ে বাজী জিতে জেতে পারি, কিন্তু শংকিত থাকি যে প্রতিপক্ষ হয়ত তিনটি টেক্কা পেয়ে বসে আছে।
এটা আমার জন্য নিয়তির পরিহাস যে আমার সঙ্গে পরিচয়ের দু বছর আগেই ওর বিয়ে হয়েছে, আর বিয়ের আগে ওরা প্রেম করেছিল কয়েক বছর। সুতরাং যত ভালো তাসই থাকুক না কেন আমার হাতে, মমতাজের স্বামীই জিতে গেছে, এবং ক্রমাগত জিতেই চলেছে আমাকে দর্শক বানিয়ে। সে যেন সত্যি সত্যি মোগল সম্রাট শাহজাহান। সে হয়ত মমতাজের জন্য তাজমহল বানাবে একদিন।

কিন্তু সব কিছু বুঝেও আমি অবুঝের মতো ওর প্রেমে পড়েছি। ওকে না দেখলে শূন্যতা, ওর কথার রেশ মগজে খেলা না করলে আরো বেশি শূন্যতা। ও যদি সম্রাটের বেগমও হয় তবু ও আমার কবিতা। কবিতাকে দেখতে না পেলে, কবিতার সম্মতি না পেলে কবি বাঁচে কী করে! মমতাজ এটা জানে। জানবে না কেন! একজন পুরুষের মুগ্ধতা একজন নারী সহজেই বুঝে ফেলে। একজন পছন্দের কবির অকপট অথচ পরিশীলিত নিবেদনের ভাষাকে দু কানভরে শুনতে পছন্দ করতেই পারে ও। কিন্তু আমরা দুজনেই বুঝি যে ওর স্বামী রাইফেল তাক করে আছে ওর দিকে। তাছাড়া ও তো ভালোবেসেই বিয়ে করেছে।
ওর ভালোবাসাবাসির দিনগুলো কখনো কখনো জীবন্ত হয়ে ওঠে আমার সম্মুখে। আমি দেখি যে মমতাজের ভারি চমৎকার একটি ভঙ্গি আছে নিবেদনের। এই নিবেদন বা সমর্পণ ওর স্বামীর প্রতি। তবু তৃতীয়জন হিসেবেও এটা আমার ভালো লাগে। এই নিবেদন, এই সমর্পণ, এই স্নিগ্ধতা ও সৌন্দর্য, আর ভালোত্ব-এ সমস্ত কিছু মিলেই তো ওর পরিপূর্ণতা। একফালি চাঁদের আলোর চেয়ে পূর্ণ চাঁদের আলো বেশি কাম্য।

(দুই)
একদিন ঈশ্বরের কাছ থেকে চরম ক্ষমতা চেয়ে নিলাম আমি। এ ব্যাপারে আমি কোন যুক্তি তর্কের পাতা ওল্টাবো না। যারা বিশ্বাস করবার করবেন, আর যাদের বিশ্বাস হবে না তারা এটিকে গাঁজাখোরি গল্প বলে উড়িয়ে দেবেন। কারো প্রতিই আমার বিদ্বেষ কিংবা পক্ষপাতিত্ব নেই। আমি যা সত্য বলে জানলাম তাই বর্ণনা করছি এই আলেখ্যে।
তো আমি অধিকারী হলাম ভীষণ এক মারণাস্ত্রের। ধরুন তা হতে পারে নাইন এম এম পিস্তল, কিংবা হতে পারে এ কে ফরটি সেভেন রাইফেল, কিংবা দক্ষ পেশাদার খুনির হাতের ধারালো ছুরি। কিংবা তা হতে পারে খুবই শক্তিশালি বিষ যা খাদ্য বা পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে স্বল্পতম সময়ে একজনকে মেরে ফেলা যায়। এমন কি ওটা একটা যন্ত্রদানবও হতে পারে। দশটনি ট্রাক কিংবা দ্রুতগামী বাস। নিমেষেই চাপা দিয়ে মেরে ফেলতে পারবে দক্ষ ড্রাইভার। বললেই চলবে যে ব্রেক ফেল করেছিল, অথবা লোকটি অসতর্কভাবে রাস্তা পার হচ্ছিল, নেহায়েতই একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।
অর্থাৎ পাঠক এখন বুঝতে পারছেন যে ঈশ্বরের কাছ থেকে অনুগ্রহ পেয়ে আমি মনকে প্রস্তুত করতে পারলাম কাউকে হত্যা করার জন্য। মনকে এভাবে প্রস্তুত করতে পারা প্রকান্তরে ক্ষমতা অর্জনকেই বোঝায়।
এরপর আমার মাথায় চিন্তা খেলা করতে থাকলো দিনক্ষণের বিষয়ে। ঠিক কোনদিন কোনখানে হত্যাকান্ডটা ঘটানো হবে।
শাহজাহানের মৃত্যুতে মমতাজ খানিকটা শোকগ্রস্ত হবে অবশ্যই, কিন্তু সে শোক কাটিয়ে উঠবে এবং আমার বাড়ানো হাত ধরবে পরম নির্ভরতায়।

শাহজাহানকে হত্যা করবো বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েক দিন পর একটা দৃশ্যের মুখোমুখী হলাম আমি। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের দোতলা। দুপুর আড়াইটের মতো। মমতাজকে দেখলাম একজন তরুণের সঙ্গে। সেই দেখার মধ্যে কিছু একটা ছিল যা আমাকে হঠাৎ করে থমকে দিলো। আমার মনে হলো ওদের চোখে মুখে লেগে আছে তৃপ্তির রেশ। ওরা কি কোথাও গিয়েছিল! সেখান থেকে মাত্রই এসেছে! নাকি যাবে কোথাও। এই তৃপ্তি কি আমার কল্পনাপ্রসূত ভুল! তরুণটি আমার পূর্ব পরিচিত। সে কবিতা লেখে, কিন্তু তার চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে নানাবিধ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে। ইদানিং সে একটা নাটক পরিচালনা করছে, আগামীতে ভালো কোন টিভি চ্যানেলে তা প্রচারিত হবে বলে সে আশাবাদী। আর সে লম্বা, ছিপছিপে গড়নের বেশ আকর্ষণীয় চেহারার তরুণ, মমতাজ যদি ওর কাছে সমর্পিত হয় এরকম এক দুপুরের প্ররোচনায়, তবে তা সত্যিই শৈল্পিক ও সুন্দর হয়ে উঠবে, এটা বুঝে আমার ভেতর একজন কবি দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার কর্তব্য শেষ করল।
ছোট্ট চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে ওরা চা পান করল, তরুণটির সঙ্গে সাধারণ ভদ্রতার দু চারটে কথাবার্তা বললাম আমি, মমতাজের দিকে তাকিয়ে একটু হাসলাম অকারণে এমনি হাসার অভ্যাসে, এবং ওদেরকে ওভাবে রেখে সরে এলাম নিজের একাকিত্বের পথে।
আমি বেশ বিভ্রান্ত হয়ে পড়লাম। ঈশ্বরের কাছ থেকে চেয়ে নেয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করে লাভ কী হবে? শাহজাহান মারা গেলে মমতাজ তরুণটির সঙ্গে জুটি বাঁধবে। কিংবা সে একাকিত্বের জীবন বেছে নেবে শাহজাহানের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে, অথচ সেসব দিনেও এখনকার মতো করেই তরুণটির সঙ্গে নির্জন দুপুরে কোথাও যাবে বা কোথাও গিয়ে ফিরে আসবে, চোখে মুখে তৃপ্তির রেশ নিয়ে চা পান করবে শাহবাগে।
(তিন)
এই যখন পরিস্থিতি, তখন ঈশ্বর হয়তো আমার দ্বিধাগ্রস্ততা দেখে বিরক্ত হলেন। তিনি তার অভ্যাস মতো নিজে নিজেই ক্ষমতার প্রয়োগ দেখালেন। কিংবা এমনও হতে পারে যে ঈশ্বর নিষ্ক্রিয় ছিলেন, আর কেউ তা ঘটালো। অথবা কেউই ঘটালো না, সময়ের শরীরে ঘটনার বিবরণ স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠলো, আমরা তা দেখলাম মাত্র।
তরুনটি মারা গেল। ওর নাম পাঠকদের জানানো প্রয়োজন কেননা হঠাৎ করেই ইতিহাস হয়ে গেল সে, একেবারেই তুচ্ছতায়। ওর নাম ইকবাল।
ইকবাল গিয়েছিল পঞ্চগড়ে ওর গ্রামের বাড়িতে। সেখানে ওর বাবা মা থাকে, আর সেই গ্রামেরই এক রূপসী মেয়ের সঙ্গে ওর বিয়ের কথাবার্তা পাকা করা ছিল, মাসখানেক পর ওদের বিয়ে হবে, ও বেশ আনন্দে ছিল সন্দেহ নেই। কিন্তু ও এটা জানতো না মৃত্যু ওকে আলিঙ্গন করতে কতটা কাছে এসে পড়েছে।
ইকবালের হাঁপানীর রোগ ছিল, ইনহেলার ব্যবহার করতো। ওর বাড়িতে ইনহেলার ছিল, কিন্তু সে রাত্রে যখন হঠাৎ হাঁপানীর টান উঠল ওর, ইনহেলার খুঁজে পাওয়া গেল না। ওর শ্বাসকষ্ট বেড়ে চলল, পাল্লা দিয়ে গভীর হতে থাকল রাত্রি, সারা বাড়ির ব্যাগ, বাক্স, টেবিলের ড্রয়ার, খাটের নিচ, বিছানার এধার ওধার সবখানে খুঁজেও ব্যর্থ হলো বাড়ির লোকজন। ইনহেলারটা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। গ্রামে কোন ফার্মেসি নেই, অত রাতে কোথায় গিয়ে পাওয়া যাবে ঔষুধ! মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠনো হয়েছিল, ইকবালের একজন দুজন বন্ধুর কাছেও গিয়েছিল সেই বার্তা। বন্ধুরা দূর থেকে কী করবে! সবাই অপেক্ষা করছিল, জানিয়েছিল সকাল হওয়া মাত্র শ্বাসকষ্টের ঔষুধ নিয়ে রওনা হবে ইকবালের বাড়ির উদ্দেশ্যে। কিন্তু ভোর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারল না ইকবাল। রাত তিনটা সাড়ে তিনটার দিকে শেষ হলো ওর শ্বাস নেওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টার অধ্যায়।

ইকবালের মৃত্যু সংবাদে আমরা হতভম্ব হলাম। এটা একবারেই অভাবিত। অমন তরতাজা মানুষ সে কিনা একরাতে হঠাৎ হাঁপানীর কারণে মারা গেল! কেউ কেউ আরো কোন কারণ আবিষ্কার করতে চাইল- যেমন সে মাদকদ্রব্য গ্রহণ করেছিল কিনা, কিংবা আর কোন রহস্য আছে কিনা এমন আগডুম বাগডুম ভাবনা চিন্তা চলল। ওর কাছের বন্ধুরা ওকে নিয়ে সাহিত্য পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা বের করল। সেখানে আমি একটা স্মৃতিচারণমূলক গদ্য লিখলাম। মমতাজ ওকে উৎসর্গ করে কবিতা লিখেছিল, তাও ছাপা হলো সেই কাগজে।
এরপর সময় তার মতো করে বয়ে যেতে থাকল, অনেকেই তাকে ভুলে গেল, কেউ কেউ কদাচ তার প্রসঙ্গ টেনে আনল বিভিন্ন আড্ডায়।
(চার)
ইকবালের মৃত্যুর ঘটনাটাকে আমি নিজের উপর আরোপ করে দেখতে চাইলাম। অর্থাৎ ঈশ্বরের ইচ্ছায় একরাতে আমিও যদি ওভাবে মরে যাই তাহলে কেমন হয়! ঈশ্বরের ইচ্ছাকে বেগবান করতে আমি এটা ওটা কারণ তৈরি করতে সচেষ্ট হলাম। আমার হাঁপানী নেই, সুতরাং ইনহেলাার না থাকা আমার জন্য কোন বিষয় হবে না, তবে আমি নিজের প্রতি যথেষ্ট অত্যাচারী হয়ে উঠলাম।

কিন্তু শাহবাগের সেই দুপুরের মতো একটি দুপুর আমি তৈরি করতে পারলাম না, আমার আর মমতাজের একত্রে চা পানের একটি দুপুর, আমাদের চোখে মুখে তখন লেগে থাকবে ইচ্ছাকে রূপায়িত করতে পারার তৃপ্তির রেশ।
আর আমার মনে এল কিঞ্চিৎকর ব্যাপারগুলোও। ইকবালের মতো করে হয়ত আমাকে নিয়েও প্রকাশিত হবে কোন সাহিত্য পত্রিকার একটি স্মৃতিতর্পণ সংখ্যা। কোন কোন বন্ধু লিখবে, কোন কোন বন্ধু সময় করে উঠতে পারবে না। হয়ত মমতাজ লিখবে উৎসর্গ করে একটি কবিতা। সেই যৎকিঞ্চিৎ কবিতা আর অন্যান্য লেখা মানুষ ভুলে যাবে অল্প দিন পরেই, কিংবা একজন দুজন একটুখানি মনে রাখবে।

তবুও এক বিকেলে মমতাজের সঙ্গে চা পান করা হলো। অবশ্য সেসময় ওর স্বামীও ছিল সঙ্গে। চা পান করতে করতে আমি যেন ইকবালের সেই অনেক দিন আগের মুহূর্তটিকে ধরে ফেলতে থাকলাম। আর শাহজাহান যেন আমার অবয়ব দখল করে নিলো। আমি ভাবতে লাগলাম ইকবালের মতো করেই নিজেকে সরিয়ে নিলে মন্দ হবে না। আমি আমার মতো বয়ে যেতে পারবো বিভিন্ন ঘটনার স্রোতে, সেখানে মমতাজের আবর্ত থাকবে না।
চা পান শেষে শাহজাহান আমাকে বলল, একটা সংবাদ আছে, আমাদের ভিসা হয়ে গেছে ইংল্যান্ডের। ইমিগ্রান্ট ভিসা। আগামী মাসে চলে যাচ্ছি।

মমতাজ চলে গেল জীবনকে আরো বেশি সমৃদ্ধির ঠিকানা পাইয়ে দিতে। আর অনবদ্য দ্যূতিময় প্রেমের তাজমহলটি আমার মনোজগতে এক দূরবর্তি সৌধ হয়ে থাকল।


About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7529

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top