The news is by your side.

ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুবিধা কেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে না?

0 867

 

 

 

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রন বহির্ভূত কারণে দেশের সকল শ্রেণীর ব্যবসায়ীরাই ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। যার ফলে বাধ্য হয়েই অনেকে খেলাপী হয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থার উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংক ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্টে খেলাপী ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিয়ে একটি সার্কুলার জারী করে। কিন্তু এ সুবিধা শুধুমাত্র ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য হওয়ায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ গ্রহীতাগন বিপাকে পড়েছেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিশেষ সুবিধার আওতাভূক্ত না হওয়ায় ঋণদাতা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ঋণ গ্রহীতা উভয়েই সংকট মোকাবেলা করছে। যার ফলে ব্যাংকের গ্রাহকরা ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুবিধা পেলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়া ব্যবসায়ীরা তাদের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছেনা। এ অবস্থায় ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুবিধা কেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও প্রযোজ্য হবে না সে বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি জে. বি. এম হাসান ও বিচারপতি মোঃ খায়রুল আলম এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এই রুল জারি করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের মহাব্যবস্থাপক, ব্যাকিং প্রবিধি ও নীতিমালা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এবং ফিনিক্স ফাইন্যান্স লিঃ কে উক্ত রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ফিনিক্স ফাইন্যান্স এর ঋণগ্রহীতা ইউনুস পাটোয়ারীর পক্ষে রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী  রাজু হাওলাদার পলাশ। ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে উক্ত ঋণগ্রহীতা ফিনিক্স ফাইন্যান্স থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ চেয়ে প্রত্যাখাত হয়ে  সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিটটি দায়ের করেন।

এ বিষয়ে রিট দায়েরকারী আইনজীবী রাজু হাওলাদার পলাশ বলেন , খেলাপী ঋণ নিয়ে একটি একতরফা, সস্তা ও জনপ্রিয়  ধারণা প্রচলিত আছে। ইচ্ছাকৃত খেলাপী যেমন আছে তেমনি অনেক নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে অনেক ব্যবসায়ীই খেলাপী হন। এমনকি অনেক সময় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কারণেও খুবই অন্যায়ভাবে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্যতামূলকভাবে খেলাপী হয়ে যান। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহীতারা ব্যাংকের চেয়েও তুলনামূলক বেশী সুদে ঋণ নেন। চক্রবৃদ্ধি, দন্ডসুদ ইত্যাদি মিলে ঋণের সুদের হার অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়।

এছাড়া দেশের সার্বিক ব্যবসা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজার, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সময়মত ঋণ প্রদান না করা, প্রয়োজন ও প্রতিশ্রুতির চেয়ে কম পরিমাণ মূলধন প্রদান করা, হঠাৎ করেই সুদের হার বাড়িয়ে দেয়া, আকস্মিক কল ব্যাক, কর্মকর্তাদের অসহযোগীতা ইত্যাদি অনেক কারণেই ঋণগ্রহীতা ব্যবসায়ীরা অনেক সময় বাধ্য হয়েই খেলাপী হয়ে যান। এতে অনেকেই কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন , ব্যবসায়ীগন তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার ঋণের সুদ বিরামহীন ভাবে চলতে থাকায় অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এর অপব্যবহার করে ঋণগ্রহীতার উপর বিশাল পরিমাণ ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেন। যা ভোগকৃত আসল ঋণের কয়েকগুণ বেশি।

বর্তমান বাস্তবতায় ব্যবসা করে এই বিশাল পরিমাণ সুদ পরিশোধ প্রায় অসম্ভব। দেশের অর্থনীতির জন্য এটা খুবই উদ্বেগের। ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে শুধু মামলা করেই এ অবস্থা থেকে উত্তরন সম্ভব নয়। এসব দিক বিবেচনায় নিয়েই ব্যাংকের গ্রাহকদের মত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহীতাদের জন্যও একই ধরনের সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ চেয়ে রিটটি দায়ের করা হয়েছে।

গত ১৬ মে ২০১৯ ইং তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপীঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে। এতে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্টে ৯ শতাংশ সরল সুদে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড সহ সর্বোচ্ছ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল একাধিকবার জানিয়েছেন, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ হারের কারণে খেলাপী ঋণ বাড়ছে এবং বিশ্বে বাংলাদেশেই ব্যাংক ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ   ।

 

 

 

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.