আয়া-ওয়ার্ডবয়দের হাতে জিম্মি চমেক হাসপাতাল, ভোগান্তি রোগিদের Reviewed by Momizat on . নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগাম ছবি রানী চক্রবর্তী (৫০) চট্টগ্রাম নগরীর আলকরণের বাসিন্দা। দিন চারেক আগে পুত্রবধূকে ভর্তি করিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাত নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগাম ছবি রানী চক্রবর্তী (৫০) চট্টগ্রাম নগরীর আলকরণের বাসিন্দা। দিন চারেক আগে পুত্রবধূকে ভর্তি করিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাত Rating: 0
You Are Here: Home » slider » আয়া-ওয়ার্ডবয়দের হাতে জিম্মি চমেক হাসপাতাল, ভোগান্তি রোগিদের

আয়া-ওয়ার্ডবয়দের হাতে জিম্মি চমেক হাসপাতাল, ভোগান্তি রোগিদের

Ctg_medical_college

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগাম

ছবি রানী চক্রবর্তী (৫০) চট্টগ্রাম নগরীর আলকরণের বাসিন্দা। দিন চারেক আগে পুত্রবধূকে ভর্তি করিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে। কিন্তু ওয়ার্ডের আয়াদের ব্যবহারে যারপরনাই বিরক্ত তিনি। কথায় কথায় ধমক দেয়া, বিছানার চাদর ধুয়ে দিতে বললে টাকা দাবি করা, গালিগালাজ করা-এ’কদিনে হাসপাতালের আয়াদের কাছ থেকে এসব অভিজ্ঞতাই হয়েছে তার। শুধু ছবি রানী নন, চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা বেশিরভাগ রোগি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনেরা এ ধরণের অনভিপ্রেত পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। রোগিদের অভিযোগ, বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মরত আয়াদের ব্যবহার দেখে মনে হয় তারাই হাসপাতালের হর্তাকর্তা। ডাক্তার-নার্সদের চেয়েও যেন তাদের দাপট বেশি হাসপাতালে।  এমনকি আয়াদের হাতে খোদ ডাক্তারদের নাজেহাল হওয়ার মত ঘটনাও আছে। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এ অবস্থা থেকে মুক্তি মিলছে না রোগি ও তাদের স্বজনদের।
জানতে চাইলে ছবি রানী চক্রবর্তী বলেন, হাসপাতালে আমার বৌমাকে ভর্তি করানোর পর থেকেই আয়াদের দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছি। বিছানার চাদর যদি নোংরা হয় বারবার বলার পরও তারা ধুয়ে দেয় না। এজন্য ১০০-২০০ টাকা দাবি করে তারা। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। বলে, ‘নিজেদেরটা নিজেরা ধুয়ে নাও’। তাই বাধ্য হয়ে রোগির কাপড়-চোপড় বাসা থেকে ধুয়ে নিয়ে আসতে হয়। ডাক্তার ও নার্সরাও এমন ব্যবহার করে না। অনেক সময় তারা ডাক্তারের নির্দেশও মানে না। পুরো হাসপাতাল যেন তাদের হাতে জিম্মি।
সরেজমিনে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। বোয়ালখালী থেকে  অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে  হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আসেন মকবুল কাদের। সাথে সাথে টলি নিয়ে আসেন একজন আয়া। কিন্তু কাদের একা তার স্ত্রীকে টলিতে ওঠাতে পারছিলেন না। আয়াকে একটু সাহায্য করার কথা বলতেই তিনি খেকিয়ে ওঠেন। বলেন, ‘আপনার রোগি আপনি ওঠান। আমার কাজ টলি ঠেলা, রোগি ওঠানো নয়।’ এ নিয়ে কাদেরের সাথে ওই আয়ার বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে অন্য একজন ওয়ার্ড বয় এসে রোগির টলি নিয়ে ভেতরে চলে যান। হতাশ হয়ে কাদের এই প্রতিবেদককে বলেন, নিজের চোখেই তো দেখলেন এদের ব্যবহার।

ছবি তুলতে গেলে এনায়েত নামের একজন দারোয়ান এ প্রতিবেদকে বাধা দেন এবং তার মুঠোফোন কেড়ে নিতে চান। কার অনুমতি নিয়ে এখানে ছবি তুলছেন এ প্রশ্নও করেন। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি শান্ত হন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আয়ারা হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হন। আগে শুধু সরকারীভাবে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হলেও হাসপাতালের জনবল সংকট মেটাতে বর্তমানে বেসরকারীভাবেও এদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালে সরকারীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৮শ’ এবং বেসরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্তের সংখ্যা ২২১ জন। বিভিন্ন ওয়ার্ডের ফটকের দারোয়ান, আয়া ইত্যাদি পদে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। এই চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে হাসপাতালের রোগিদের বাক-বিতন্ডা লেগেই থাকে। তাদের দুর্ব্যবহারে অতীষ্ট রোগি ও তাদের স্বজনেরা।
অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মো. রেজা বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আমার ছোট ভাই আমার দেখাশুনা করছেন। গত পরশু একজন আয়াকে সে জিজ্ঞেস করেছিল, দুপুরের খাবার দিতে দেরি হচ্ছে কেন। সাথে সাথে আয়াটি তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে আমার ভাইকে গালিগালাজ করতে লাগল। আমার ভাই তার এ ব্যবহারে হতভম্ব।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আয়ারা রোগিদের গায়ে হাত তোলার ঘটনাও আছে। এমনকি ডাক্তারদের কথাও অনেক সময় মান্য করে না তারা।
চমেক শিশু সার্জারী বিভাগের প্রধান তাহমিনা বানু বলেন, রোগিদের কথা কি বলব, আমাদের সাথেই আয়ারা অনেক সময় দুর্ব্যবহার করেন। প্রায় এক মাস আগে ওয়ার্ডের একজন আয়াকে রোগির কাছ থেকে জোর করে টাকা নেয়ার অভিযোগে শোকজ করলে সে উল্টো আমাকে ধমক দিয়ে বলে, ‘রোগিদের কাছ থেকে টাকাও নেব না, এ ওয়ার্ডে কাজও করব না !’। পরে তাকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি আরো বলেন, আয়ারা রোগি বা তাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে ধমকের সুরে কথা বলে এক ধরণের দাপট দেখাতে চায়। যেন রোগিরা তাদের তোয়াজ করে চলে। রোগিরাও আমাদের মাঝে মাঝে এ বিষয়ে অভিযোগ দেয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কি করার আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের হৃদরোগ বহির্বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক রেজোয়ান রেহান বলেন, হাসপাতালের সব আয়া যে খারাপ সেকথা ঠিক নয়। কিছু খারাপ আয়ার কারণে সবার বদনাম হচ্ছে। আর জনবল সংকটের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এছাড়া এরশাদ সরকারের আমলে করা একটি অদ্ভূত আইনের কারণেও কর্তৃপক্ষ নিরুপায়। এ আইনে সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের অন্য সরকারী হাসপাতালে বদলি করার নিয়ম রাখা হলেও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য এ নিয়মটি রাখা হয়নি। অর্থাৎ একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী যে হাসপাতালে চাকরিতে ঢুকবে সে পুরো জীবন সে হাসপাতালেই চাকরি করবে। এ নিয়মের কারণে তারা মনে করে তাদের চাকরি নিশ্চিত। এছাড়া বেতন কম হওয়ার কারণে তারা রোগিদের কাছ থেকে নানাভাবে টাকা আদায় করে। তবে তা ঠিক নয়।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জামাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোন রোগি অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হয়। তিনি আরো বলেন, যদি তারা অন্যায় করে থাকে তাহলে আপনারা লিখুন। লিখলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7902

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top