আফরোজা অদিতি : কবিতা ও কথাসাহিত্যে যিনি বিনির্মাণ করেছেন আপন ভুবন          Reviewed by Momizat on .   আফরোজা অদিতি। সাহিত্য ভুবনে প্রবেশ কবিতা দিয়ে। পরে লিখেছেন গল্প-উপন্যাস। আফরোজা অদিতির সঙ্গে কথা বলেছেন-আমাদের বিশেষ প্রতিবেদক  ইয়াসির আজিজ। প্রশ্ন : আপন   আফরোজা অদিতি। সাহিত্য ভুবনে প্রবেশ কবিতা দিয়ে। পরে লিখেছেন গল্প-উপন্যাস। আফরোজা অদিতির সঙ্গে কথা বলেছেন-আমাদের বিশেষ প্রতিবেদক  ইয়াসির আজিজ। প্রশ্ন : আপন Rating: 0
You Are Here: Home » slider » আফরোজা অদিতি : কবিতা ও কথাসাহিত্যে যিনি বিনির্মাণ করেছেন আপন ভুবন         

আফরোজা অদিতি : কবিতা ও কথাসাহিত্যে যিনি বিনির্মাণ করেছেন আপন ভুবন         

 

আফরোজা অদিতি। সাহিত্য ভুবনে প্রবেশ কবিতা দিয়ে। পরে লিখেছেন গল্প-উপন্যাস। আফরোজা অদিতির সঙ্গে কথা বলেছেন-আমাদের বিশেষ প্রতিবেদক  ইয়াসির আজিজ

প্রশ্ন : আপনাকে প্রধানত কবি হিসেবেই আমরা জানি। কিন্তু আপনার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। আপনার কথাসাহিত্য নিয়েই আগে কথা বলা যাক-

উত্তর : আমি কবি হতে পেরেছি কিনা জানি না। তবে কবিতা লিখেছি, লিখছি এবং লিখব আশাকরি। কবিতার  পাশাপাশি লিখেছি গল্প, উপন্যাস ও অন্যান্য গদ্য। খুব বেশি পাঠক না থাকলেও আমার গল্প উপন্যাস ও অন্যান্য গদ্য পাঠক ভালোভাবেই নিয়েছে মনে হয়। শিশুতোষ ও বড়দের মিলিয়ে আমার উপন্যাস ৬টি গল্পগ্রন্থ ৭টি।  উপন্যাস – একই সমান্তরালে (শিশুতোষ), জ জীবন, তিনটি উপন্যাস (এক লহমায়, দুপুরচন্ডির প্রতীক্ষায়, চন্দনের গন্ধ), দুই জীবনের গল্প। গল্পগ্রন্থগুলো হচ্ছে- একটি মৃত্যু, বৃষ্টি ও স্মরণ সভা, বাছাই গল্প, জীবনের পায়ে পায়ে, নির্বাচিত গল্প, স্বাধীনতার সন্তান, বাউরা, অন্যজগতের চিঠি, শূন্যতার ভেতর উত্থান। শিশুতোষগ্রন্থ হচ্ছে- ছায়াভূত, ফুলকুমারী।

প্রশ্ন : আপনার গল্পে ও উপন্যাসে আমরা মূলত প্রেমের পটভূমি ও বিস্তার দেখতে পাই। কিন্তু ‘জ জীবন’ উপন্যাসটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ পরবর্তী অস্থিরতা প্রাধান্য পেয়েছে। এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো কি আপনার অভিজ্ঞতার মধ্য থেকে এসেছে নাকি শুধুই কল্পনাপ্রসূত ?

উত্তর : জীবন চলে মূলত প্রেমের ওপর ভিত্তি করেই। ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন প্রকৃতি মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী। এই সৃষ্টির পেছনেও আছে প্রেম। প্রত্যেক সৃজনশীলতার পেছনেই প্রেম থাকে। লেখক সৃষ্টি করে তার হৃদয় নিংড়ানো প্রেম দিয়ে। বস্তু প্রেম আর আধ্যাতিœক প্রেম এই দুইয়ের মিলনই সৃষ্টি। মানুষ যুদ্ধ করে এর মধ্যেও লুকিয়ে আছে প্রেম।  প্রেমের মতো যুদ্ধ স্বাধীনতা আমাদের জীবনেরই অংশ। জ জীবন অর্থ জীবনের কিছু অংশ। আভিধানিক অর্থ অবশ্য জীবনের সিকি অংশ। জীবনের অংশ হিসেবে যুদ্ধ এসেছে ‘জ জীবন’ উপন্যাসে। চরিত্রগুলি কাল্পনিক। কিন্তু ঘটনাগুলি যুদ্ধে ঘটে যাওয়া ঘটনা। আমার আপনার জীবনে ঘটেনি কিন্তু দেশের কারো না কারো জীবনে তো ঘটেছে।

প্রশ্ন : রাজনীতি কতটা নিয়ন্ত্রণ করেছে আপনার লেখনিকে ?

উত্তর : রাজনৈতিক পরিবারে আমার জন্ম। রাজনীতির আদর্শ ও ভাবধারার মধ্যেই আমার বেড়ে ওঠা। তবুও বলবো রাজনীতি আমার লেখাকে নিয়ন্ত্রণ করেনি করতে পারেনি। আমি বিশ্বাস করি প্রেম ছাড়া যেমন জীবন চলে না তেমনি রাজনীতি ব্যাতীত জীবন চলে না। রাজনীতি জীবনেরই একটা অংগ। খাওয়া পড়া লেখা সবই রাজনীতি। এমনকি প্রেমও রাজনীতি।

প্রশ্ন : একজন নারীর সংগ্রামের বর্ণনা কি পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা- বিশেষত একজন পুরুষের অভিজ্ঞতা আরও ব্যাপক হতে পারত !

উত্তর : প্রশ্নটা বোঝা গেল না।

প্রশ্ন : আপনার জ-জীবন উপন্যাসে পুরুষ চরিত্রের অভিজ্ঞতা আরও ব্যাপক হতে পারতো কি বলেন

উত্তর : হতে পারতো। কিন্তু ওই যে আমি এক অলস মানুষ। কাহিনী টেনে নিয়ে যাওয়া আমার ধৈর্যে কুলায় না। অর্থাৎ একাধারে অলস ও অধৈর্য আমি। তাছাড়া আর একটা কারণ হলো আমি বিশেষ করে নারী চরিত্রটাকেই প্রাধান্য দিতে চেয়েছি। ওই নারীকে ঘিরেই কাহিনীর আবর্তন চেয়েছি। এই নারীর সঙ্গে পুরুষ চরিত্রের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলেই পুরুষ চরিত্র অতটা আসেনি। তবে এই বইয়ের আরও খন্ড করার ইচ্ছা আছে যেখানে পুরুষ চরিত্র আসবে। তবে নায়িকার সঙ্গ দেওয়ার জন্য পুরুষের  আগমন হয়তো ঘটবে না।

প্রশ্ন : আপনার দুই জীবন উপন্যাসের কাহিনী বিস্তার ও লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলুন

উত্তর : দুই জীবন উপন্যাসে একজন নারীর জীবন সংগ্রামের কথা বলা হয়েছে। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়া এক বালিকা বধুর স্বামী সমকামী। অথচ মেয়েটির ওপর স্বামীত্বের অধিকার ফলানোর চেষ্টা। সেই বালিকা বধুর মানসিক দ্বন্দ্ব আর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে যে সংগ্রাম তারই বিস্তৃতি এই বই। মূল কথা কাহিনীর নায়িকার জীবন সংগ্রাম। এই কাহিনীর লক্ষ্য নারীকে সমাজে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। নারী যে একজন মানুষ তা যেমন নারীকে উপলব্ধি করতে হবে তেমনি উপলব্ধি করাতে হবে তার আশেপাশের পুরুষকে।

প্রশ্ন : এই উপন্যাসে মানসিক দ্বন্দ্বই প্রধান নাকি প্রধান ঘটনার জাল ?

উত্তর : নারী পুরুষের মানসিক দ্বন্দ্ব চিরন্তন। এই দ্বন্দ্ব অবসান হওয়ার নয় তবে দ্বন্দ্বের অবসান হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃতিগতভাবে নারী ও পুরুষ ভিন্ন, তাদের চিন্তাধারা ভিন্ন, ভিন্ন তাদের গঠন। এক ভিন্নতা সত্ত্বেও আমার মনে হয় নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। নারী ও পুরুষের উভয়ের উভয়ের প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন। মানসিক দ্বন্দ্ব নিয়েই ঘটনা প্রবাহমানতা। নদী যেমন জল ছাড়া নদী নয় তেমনই উপন্যাস বা গল্প ঘটনার জাল ছাড়া নয়।

প্রশ্ন : নারীবাদকে কতটা প্রতিষ্ঠা করতে চান আপনার উপন্যাসে ?

উত্তর : আমার উপন্যাসে যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে তা হলো সমাজে নারীর অধিকার। নারী অধিকারের কথা

যদি নারীবাদ হয় তাহলে নারীবাদ প্রতিষ্ঠা শুধু উপন্যাসে গল্পে নয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাই। আমি নারীবাদে বিশ্বাসী নই। আমি অত্যাচারিতের পক্ষে। আমার কাহিনীও অত্যাচারিতের কথাই বলে। এই সমাজে শুধু নারী একাই নয় পুরুষও অত্যাচারিত হয় হচ্ছে। আমি উভয়ের কথাই বলি, বলেছি, বলবো।

প্রশ্ন : আগামিতে কি জ জীবন এর মতো জীবনবাদী উপন্যাস পাওয়া যাবে আপনার কাছ থেকে ?

উত্তর : আমার সব গল্প উপন্যাসই জীবনকে নিয়ে জীবনকে বাদ দিয়ে নয়। গল্প উপন্যাস কবিতা সবকিছুর মধ্যেই আমি সমাজের কথা বলতে চেষ্টা করেছি। চেষ্ট করেছি দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা বলতে। সমাজের বৈষম্যের কথা তুলে আনতে চেয়েছি আমার লেখায়। জীবনবাদী বা জীবনঘনিষ্ট যাই বলেন না কেন লেখা হলে তা জ জীবনের মতো উপন্যাসই হবে। সমাজের বৈষম্যের কথাই আমি  গল্পের ভেতর দিয়ে তুলে আনতে চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন : আপনার অনেক গল্পে অতিপ্রাকৃত বর্ণনার বেশ বিস্তার দেখা যায়। ‘চন্দনের গন্ধ’ কে উপন্যাস বলবেন  নাকি ভৌতিক উপন্যাস কিংবা বড় গল্প ?

উত্তর : চন্দনের গন্ধ উপন্যাস না ভৌতিক উপন্যাস নাকি বড় গল্প তা ঠিক করবেন আপনারা মানে পাঠকবৃন্দ। আমি বলি চন্দনের গন্ধ অতিপ্রাকৃত কাহিনীর বিন্যাস।  আমাদের জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা বিশ্বাস না করলেও ওই ঘটনার কোন মীমাংসা হয় না। এমনি ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে চন্দনের গন্ধ বইয়ের কাহিনীর বিস্তার।

প্রশ্ন : চন্দনের গন্ধ উপন্যাসের কাহিনীতে অকিপ্রাকৃত বিষয়গুলো কিভাবে এলো আপনার মাথায় ?

উত্তর : চন্দনের গন্ধ কাহিনীর অতিপ্রাকৃত বিষয়গুলো আমি প্রত্যক্ষ করেছি। কথাগুলো বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও ঘটনাগুলো ঘটেছে।

প্রশ্ন : যেমন

উত্তর : প্রথমে বলি ছোটবেলার কথা। আমাদের গ্রামে তখন কোন হাইস্কুল না থাকাতে আমাকে আমার বাবা-মা পাবনায় লজিংবাড়িতে পাঠিয়েছিলেন লেখাপড়া করার জন্য। শুনেছি ওই বাড়িটা কোন এক জমিদারের বাড়ি ছিল। মাঝেমাঝে রাতে নূপুরের শব্দ শুনতে পেতাম। শুধু আমি নই অনেকেই শুনতে পেত। অনেক সময় সাদা শাড়ি পরা সাজুগুজু করা এক তরুণীর ছায়ার মতো ঘোরাফেরাও কেউ কেউ দেখেছে।  ওই বাড়িটাতে কারো মৃত্যুর আগে কালো আলখেল্লা পরা ছায়াও অনেকে দেখেছে। তাদের মতে ওই ছায়া দেখলেই কারো না কারো মৃত্যু অনিবার্য। ওই বাড়ির এক ছেলে নিশির ডাকের মতো একবার ওই নারীর পেছনে পেছনে চলে যেতে চেয়েছিল। বাড়ির বড়চাচি দেখে ফেলায় সে বেঁচে গিয়েছিল। দ্বিতীয় ঘটনা আমার চাকরি পাওয়ার পরের ঘটনা। আমার পরিচিত এক মেয়ে ছিল আমার বোনের মতোই। ওকে খুব আদর করতাম। ওই মেয়েটারও যত আবদার ছিল আমার কাছে। ওকে দেখেছি মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে যেতে। যখন চেতনা থাকত না তখন কথা বলত ছেলেদের কন্ঠে। শূন্য হাত বাড়িয়ে হাতের মুঠোয় জিনিষ আনতে দেখেছি আমি। আমার এখনও এগুলো স্বপ্ন মনে হয়।

প্রশ্ন : এই সঙ্গে বলা যায় অন্যজগতের চিঠি গল্পগ্রন্থের কথাও। এখানে ভৌতিক বিষয়গুলো মানবিকবোধকে ঢেকে দেয় নি। আপনি কি এ বিষয়ে একমত ?

উত্তর : অন্যজগতের চিঠি বলেন আর বাছাই গল্প নির্বচিত গল্প যাই বলেন না কেন আমার সব লেখাতেই মানবিকতাবোধকে সমুন্নত রাখতে চেষ্টা করেছি। ‘সবার উপরে মানুষ’ এই বিশ্বাস নিয়েই আমার সকল কাজ। মানুষের কথা বলা আমার বাবা-মায়ের কাছে শিখেছি। বাবা মা যতদিন বেঁচে ছিলেন মানুষের জন্যই করে গেছেন।

Afroja

প্রশ্ন : আপনার আরও কিছু গল্পে জ্বীন ও আতœা সম্পর্কিত নানা প্রসঙ্গ দেখা যায়। এগুলো কি শুধুই কল্পনা নাকি আপনার বিশ্বাস ?

উত্তর : জ্বীন বা আতœার প্রতি বিশ্বাস এগুলো তর্কাতীত। এ বিশ্বাস যার যার তার তার। তবে নিজে যদি বিশ্বাস না করা যায় তবে আমি সে বিষয়ে কিছু লিখতে পারি না। শুধু কল্পনা দিয়ে কোন কাহিনীর বিন্যাস হলেও তা বিশ্বাসযোগ্য হয় না। আমার মনে হয় কোন লেখকেরই তা করা ঠিক নয়। বাস্তবের সঙ্গে বিশ্বাস আর কল্পনার মিশেল দিয়ে কাহিনীর বিস্তার করলে তা বেশী গ্রহনযোগ্য হয়। আমি যা লিখি তা আমার বিশ্বাস থেকেই লিখি।

প্রশ্ন : এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ কুসংস্কারের বিষয় চলে আসতে পারে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী ?

উত্তর : গ্রামীণ যে কুসংস্কার এটা শিক্ষার অভাব। শিক্ষা বলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কথা বলছি না, বলছি পরিবার ও সমাজ থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা। নিজে নিজে শিক্ষিত হওয়ার কথা। যেমন কুসংস্কার বিরোধি লেখক আরজ আলী মাতুব্বর ছিলেন স্বশিক্ষিত। তিনি গ্রামীণ কুসংস্কার থেকে উত্তরণের কথা বলেছেন। আমার লেখায় গ্রামীণ যে কুসংস্কার তা চলে আসলেও প্রতিষেধকও আসবে এটা বিশ্বাস করতে পারেন। আর একটা কথা হলো স্বশিক্ষিত মানুষই কুসংস্কার মুক্ত হতে পারে। মানুষের জীবনে সংস্কার থাকবেই। যে সংস্কার আপনার বৃদ্ধি বা উত্তরণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়াবে সেটাই সু-সংস্কার আর যা বাধা হয়ে দাঁড়াবে সেটা কু-সংস্কার। কু-সংস্কারের বিরুদ্ধে আমার লড়াই চিরকালের। যতদিন বাঁচবো এ লড়াই আমার চলবেই। আপনি হয়তো জানেন, আমি বিঞ্জান চেতনা পরিষদের নিয়মিত সদস্য ছিলাম একসময়। ‘বিজ্ঞান চেতনা’ নামে একটি পত্রিকায় কু-স্স্কংার বিষয়ে প্রতি সংখ্যাতেই আমার লেখা থাকতো। তখন ভোরের কাগজেও আমার কু-সংস্কার বিষয়ক লেখা ছাপা হয়েছিল।

তখন অবশ্য আমার লেখক নাম ছিল মঞ্জু আহমেদ। (হাসি) আমার লেখক নাম তিনটা জানেন নিশ্চয়।

প্রশ্ন : আপনি প্রথমদিকে লিখতেন মঞ্জু আহমেদ নামে। আপনার প্রথম বই কী এই নামে প্রকাশিত হয়েছে। নাম বদল করেছেন, নাকি ছদ্মনামে লিকতে চান এখনও।

উত্তর : আমার প্রথম কবিতার বই ‘সেই মন নেই’ বের হয়  আফরোজা বেগম নামে। আমার দাদা আমার নাম রেখেছিলেন মোসাম্মাৎ সালমা দিল আফরোজা খানম। পরে আমার বাবা নাম রাখলেন আফরোজা বেগম। আমার তিনটা বই ( সেই মন নেই, পথের বাঁকে, স্বাধীনতার সন্তান) বের আফরোজা বেগম নামে। পরে বের করি মঞ্জু আহমেদ নামে। মঞ্জু আমার ঘরের নাম এবং আহমেদ আমার বাবার পদবী। এই নামেই দীর্ঘদিন পত্রপতিকায় লিখেছি। আমি এক পত্রিকাতে রান্নাবান্না ও রূপচর্চা বিষয়ে লিখতাম। আসল নামে লিখিনি। লিখেছি শেখ অদিতি নামে। পরবর্তীতে আফরোজা অদিতি নামে লেখা শুরু করি। নামের  ভেতর ছন্দ থাকাটা আমার খুব পছন্দ। তাছাড়া আমি কর্কট রাশির জাতক। আমার শুভ সংখ্যা ২ এবং ৭। এই ৭ সংখ্যার জন্য এই নামটা নেওয়া। একদিন এক সাহিত্য আসরে নাম পরিবর্তন করতে চাই। এই তিনটি নাম ( আফরোজা বেগম, শেখ অদিতি, মঞ্জু আহমেদ) দিয়ে বলি কোন নামটা নিলে ভালো হয়। তখন সাযযাদ ভাই ( কবি সাযযাদ কাদির ) সহ অনেকেই আফরোজা অদিতি নামটা সমর্থন করে। আমিও নামের অক্ষর সংখ্যা ৭ হওয়াতে পছন্দ করি এবং এই নামেই লেখা শুরু করি। আর নাম পরিবর্তন করবো না।

প্রশ্ন : কল্পবিজ্ঞানের আঙ্গিকে কিছু গল্প উপন্যাস লিখেছেন আপনি। এগুলো কি কিশোর তরুণ পাঠকদের কথা ভেবে লেখা নাকি সবার জন্য ?

উত্তর : সবার জন্য। যার ভালো লাগবে তার জন্য। শিশু কিশোরদের জন্য লেখা হলে সে লেখা বড়রা পড়তে পারবে না তাতো নয়। বড়দের ভালো লাগবে না তাও নয়। যেমন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের লেখা যেমন ছোটদের কাছে তেমনি বড়দের কাছেও সুখপাঠ্য। সত্যজিত রায়ের লেখাও বড় ছোট সবার কাছে সমান প্রিয়।

afroza-aditi-2

প্রশ্ন : আমাদের দেশের কথাসাহিত্যে জনপ্রিয় ধারার লেখক এবং প্রকৃত কথাশিল্পী- এই দুইয়ের বিভেদরেখা দেখতে পান নাকি পান না ?

উত্তর : জনপ্রিয় ধারার লেখক আর প্রকৃত কথাশিল্পীর মধ্যে পার্থক্য আছে আবার নেইও। দুজনেই লেখে। দুজনেরই পাঠক আছে। জনপ্রিয় ধারার লেখক পাঠক সৃষ্টি করে শুধু তার নিজের লেখার ধারা অনুযায়ী আর প্রকৃত কথাশিল্পী পাঠক সৃষ্টি করে তার লেখার মাধ্যম অনুযায়ী। পাঠকের মন বা চাহিদার কথা ভেবে জনপ্রিয় ধারার লেখকেরা লিখে এতে পাঠকের সময় কাটানো সহজ হয়। পাঠকের পড়ার মনটা মরে যায়। প্রকৃত কথাশিল্পী পাঠকের দিকে নয় সমাজ সংস্কারের দিকে লক্ষ্য রেখে তার লেখা লিখেন আর অনেক সময় নিয়ে লেখেন। প্রকৃত কথাশিল্পীর লক্ষ্য থাকে পাঠকের মন মানসিকতার উন্নতি। সমাজের উন্নতি এবং প্রকৃত পাঠক সৃষ্টি। বেশি সংখ্যক মানুষ যেন উপকৃত হয় তার লেখা পড়ে প্রকৃত কথাশিল্পীর এটাই লক্ষ্য থাকে। জনপ্রিয় লেখক আর প্রকৃত কথাশিল্পী দুজনেই লেখক কিন্তু ভিন্ন মেরুর।

প্রশ্ন : মহিলা লেখকদের সমস্যা, সম্ভাবনা, বিরাজমান প্রতিকূলতা এ সম্পর্কে কিছু বলুন। আপনার সৃষ্টির ক্ষেত্র কি এখানে আবদ্ধ হওয়ার শঙ্কা বোধ করে ?

উত্তর : নারী লেখকদের যে বাধা সেটা শুধু পরিবার সমাজ থেকেই আসে না। নারী  লেখকের নিজের মধ্য থেকেও আসে। একটা কথা অবশ্যই ঠিক যে অল্প কিছু নারী লেখক বাদ দিলে  বেশির ভাগ নারী লেখকেরাই সামাজিক বাধা অতিক্রম করতে পারে নাই। কখনও কখনও আমার মনে হয় তারা বাধা অতিক্রম করতে চান না। একজন নারী লেখক হলেও তার প্রথম পরিচয় তিনি একজন নারী। কারো মেয়ে কারো বোন কারো স্ত্রী কারো মা। তার সংসার আগে তারপরে তার লেখা। নারী লেখকদের মধ্যে যখন নারীত্ব প্রধান হয় তখন সব সম্ভাবনা থাকলেও ক্ষীণ থাকে। আমাদের সমাজে নারীদের প্রতিকূল অবস্থাও আছে। যেমন অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে যা সম্ভব নারীর ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। একজন পুরুষ লেখক যেখানে যেখানে অনায়াসে যেতে পারে সেখানে সেখানে যেতে নারী লেখককে কিছুটা হলেও ভাবতে হয়। তারপরেও একজন নারী লেখক (সবার ক্ষেত্রে নয়) যখন লিখছেন তখন বাড়িতে মেহমান এলে বা সংসারের কাজ করার থাকলে তাকে তখন লেখা ফেলে সেই কাজ করতে হয় কিংবা তদারকি করতে হয়। একটা ভালো লেখা লিখতে হলে জানতে হবে বেশি। কথা বলে ১০০ পাতা পড়লে ১ পৃষ্ঠা লেখা যায়। অর্থাৎ জ্ঞান আহরণ জরুরী। এই জ্ঞান আসবে কোথা থেকে। দেখা এবং জানা থেকে। আপনাকে দেখতে হবে জানতে হবে। যেটা নারী লেখকদের সবার ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।

আমার সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই বাধা আমার প্রকাশ করার ক্ষেত্রে। আমার পরিবার থেকে কোন বাধা নেই  বরং উৎসাহ আছে। আমার যেটা হয়নি সেটা জীবনের প্রতিকূল অবস্থার জন্য হয়নি। প্রকাশ করার ক্ষেত্রের কথা বললাম এইজন্য যে নারী লেখকদের প্রকাশক পাওয়া খুব কঠিন। হাতে গোনা কয়েকজন নারী প্রকাশক আছেন তারাও খুব কষ্ট করে প্রকাশনা জগতে আছেন। না, না তাই বলে আমি পুরুষ প্রকাশকদের নিন্দা করছি না বা বলছি না যে তারা হেল্পফুল নন। তারাও হেল্পফুল।

প্রশ্ন : আমাদের সাহিত্যে যথাযথ মূল্যায়ন অবশ্যই দেখা যায় না। বাজারি লেখাতেই ভর্তি থাকে অধিকাংশ প্রকাশনা। এবং পাঠকও এসব নিয়েই মাতামাতি করে। এ ব্যাপারে কোনকিছু করার কথা ভাবছেন কি ?

উত্তর : লেখা যাই হোক তাকে বাজারি লেখা বলব না। লেখা যে লেখে তার কাছে প্রিয়। তবে বলব বাজারি লেখা বলে যা প্রচলিত তা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এটা বন্ধ করতে যেমন প্রকাশককে তেমনি লেখককেও সচেতন হতে হবে। একটা লেখা লেখার পরেই লেখক যদি সেটা ছেপে ফেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তা হলে হবে না। ভালো মন্দ যাচাই করে তবে সেটা  বই আকারে বের করা প্রয়োজন। কারণ একটা বই এটা চিরজীবনের সঞ্চয়। ভালো মন্দের ওপর লেখকের সুনাম দূর্নাম নির্ভর করে। লেখককে খেয়াল রাখতে হবে বইটাতে ভুল শব্দ, ভুল বানান, এমনকি বইয়ের কাটতি হওয়ার জন্য এমন কিছু শব্দ প্রয়োগ না করা হয়। বইয়ের ভেতর ভুল থাকলে দায়ভার কিন্তু লেখককেই বইতে হয়। আর ভুল সমৃদ্ধ বই কালের খাতায় টিকে থাকে না। লেখকের লক্ষ হওয়া উচিত তার সৃষ্টি যেন চিরকাল বেঁচে থাকে। আর প্রকাশকদেরও এমন হওয়া উচিত যেন একটা বই হাতে পেলেই তাকে বই আকারে প্রকাশ না করা। তাকে মার্জনা পরিমার্জনা করার পরে তা ছাপতে দেওয়া। এজন্য প্রকাশকদের একটা সম্পাদনা পরিষদ থাকা জরুরি। দুঃখের বিষয় তা নেই। আবার অনেক প্রকাশক আছে যারা লেখা অতোটা জানেন না।

আমাদের লেখার মূল্যায়ন যে হয় না তা নয়। তবে আমাদের সবার লেখা প্রকৃত জায়গায় পৌঁছায় না। তাছাড়া মানুষ এই দৌড়যুগে বই খুব কম পড়ে। মানুষের মধ্যে এখন জ্ঞানের পিপাসা নেই আছে অর্থের পিপাসা। অর্থ ছাড়া চলে না আবার বেশি অর্থও ভালো নয়। জ্ঞান আর অর্থ একসঙ্হে কখনও চলতে পারে না। অর্থের জন্য মানুষের জ্ঞানের আহরণের গভীরতা কমে গিয়েছে। আর গভীরভাবে অধ্যায়ন না করলে মূল্যায়ন অসম্ভব। তাই নয় কি ?

প্রশ্ন : আপনি যেহেতু কবি সেহেতু আপনার কাছে স্বাভাবিক প্রত্যাশা থাকে কবি চরিত্র নিয়ে উপন্যাস ও গল্প লেখার। সেরকম কোন কবি কেন্দ্রীক কাহিনী আমরা এ অবধি পাইনি আপনার কাছ থেকে।একজন কবির মনস্তত্ত্বকে ফুটিয়ে তোলার আকাঙ্খা কতটা কাজ করে আপনার মধ্যে ?

উত্তর : কবি চরিত্র ফুটিয়ে তোলার আগ্রহ আছে খুব। বিশেষ করে নারী কবি। একজন নারী কবির মন মানসিকতা কেমন হয়, কী বাধা তাকে অতিক্রম করতে হয় এ নিয়ে লিখতে খুব ইচ্ছা। একটা প্রেমের কবিতা লিখলে একজন নারী কবিকে কী ধরণের কথার সম্মুখীন হতে হয় এটা জানা পাঠকের সঙ্গে একজন পুরুষ কবির জানা খুব জরুরী। আমাদের এমন বাধার সম্মুখীন নিয়ত হতে হচ্ছে কিন্তু সমাধান হচ্ছে না। আমি লিখব আশা করি। আপনার বা আপনাদের এ আশা পূরণের চেষ্টা করব। কিন্তু আমি অলস মানুষ। লেখা আসে মনের মধ্যে সে লেখা মাথায় নিয়ে ঘুরি সঙ্গে সঙ্গে লিখি না। ভাবি পরে লিখব কিন্তু সে প্লটটা হারিয়ে যায়। আবার কখনও কোন লেখা কিছু লেখার পরে আর লেখা হয় না। বছরের পর বছর ঘুমিয়ে থাকে কম্পিউটারের মধ্যে জাগাতে পারি না। তবে লিখব …

প্রশ্ন : কীভাবে আপনি লেখেন বা লেখার অনুপ্রেরণা কিংবা লেখার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলুন

উত্তর : যা লিখেছি অনুরোধে লিখেছি। কেউ পত্রিকার লেখা চেয়েছে কেউ বই করতে চেয়েছে। পপি চৌধুরীর বলেছে, বলেছেন অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের  জাকির ভাই(সৈয়দ জাকির হোসাইন)। সাযযাদ ভাই, সুলতানা আপা এরা সবাই আমাকে একটা লেখার কথা বলেছে। কেউ বলেছে কীভাবে লিখতে হবে। কেউ বলেছে এই লাইনটা এমন হলে ভালো হয়। আমিও চেষ্টা করেছি। আবার অন-লাইন পত্রিকা থেকে ফাল্গুনি মুখোপধ্যায় লেখা চেয়ে পাঠান। ছোটদের বড়দের সবার জন্য। সম্পাদক  পত্রিকার জন্য মাঝেমধ্যে লেখা চেয়েছেন সরসিজ আলীম। এই রকম অনেকেই চাওয়ার প্রেক্ষিতে আমার লেখা হয়ে যায়। শিশুতোষ হোক বড়তোষ হোক। আমি কতোটা পেরেছি তা পাঠকই সঠিক বলতে পারবে।

প্রশ্ন : আপনার অন্যান্য গদ্য কলাম বা প্রতিবাদী ধারার লেখা- এ বিষয়ে কিছু বলুন

উত্তর : যখন কবিতা লিখতে শুরু করি তখন শুধু প্রেমের কবিতাই লিখতাম। আমার মা লেখা পছন্দ করতেন কিন্তু তিনি ছিলেন অতি বাস্তববাদী মানুষদের মধ্যে একজন। একদিন তিনি বললেন, কী সব প্যানপ্যানানি লেখা লেখ, এসব ছেড়ে মানুষের কথা লেখ। তখন থেকে গল্প লিখতে শুরু করি।   গল্পের সঙ্গে সঙ্গে কলাম লিখলাম। ফতোয়া থেকে শুরু করে বেশ কিছু কলাম লিখলাম নারী অধিকার নিয়ে। আমার গল্পে ও অন্যান্য গদ্যে সমাজের বিভিন্ন অসংগতির কথা বলতে চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও করবো। কারণ  গদ্য সাধারণত প্রতিবাদীধারারই হওয়া উচিত বলে মনে করি আমি। আরও মনে করি গদ্য সবসময় শক্তপোক্ত হওয়া দরকার। গদ্যের মাধ্যমে সমাজ বদল করতে চাই আমি। সমাজের সাতসতেরো আমি গদ্যের মাধ্যমে পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চাই।  কবিতাতে যে সমাজের কথা বলা সম্ভব নয় তা নয়। কবিতায়ও বলা সম্ভব। প্রেমের কবিতা ছাড়াও আমি নারীকে নিয়ে কবিতা লিখেছি। নারীবিষয়ক কবিতা লিখতে গিয়ে নারীবাদী কবি নাম হয়ে যায়। তখন নারীকে নিয়ে কবিতা লেখা বাদ দিলাম। কারণ আমি নারীবাদী লেখক বা কবি হতে চাইনি আমি চেয়েছি প্রেমের কবি  হতে। আমি গদ্যে যাই লিখি না কেন কবিতায় প্রেম রাখতেই সচেষ্ট থাকবো।

প্রশ্ন : আপনার শিশুতোষ লেখা সম্পর্কে কিছু বলুন

উত্তর : শিশুদের জন্য খুব কম লিখেছি। শিশুদের জন্য লিখতে হলে বাড়তি মনোযোগ দিতে হয়। শিশুদের মন কোমল। এই কোমল মনে ছাপ রাখার জন্য খুব চিন্তা করে লিখতে হয়। শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। বইয়ের চরিত্রের মতো, কখনও বাবা-মায়ের মতো কখনও বা বড় বড় মনীষীদের মতো হতে চায় ওরা। তাই যতোটা সম্ভব ভাবনা-চিন্তা করে লেখা দরকার। শিশুদের মানসিক উন্নতি যাতে হয় সে বিষয়টা মাথায় রেখেই শিশুদের জন্য লিখেছি। আমি ভূত বা পরীর গল্প কম লিখি। যা লিখেছি তার মধ্যেও শিশুদের মানসিক উৎকর্ষের কথা আছে।  কতোটা পেরেছি এটা আপনারাই বলবেন।

প্রশ্ন : আপনার কবিতার দিকে নজর দেওয়া যাক। কবিতা লেখার অণুপ্রেরণা পেয়েছেন কার কাছ থেকে ?

উত্তর : কবিতা লেখার অনুপ্রেরণা পরিবার থেকে যেমন পেয়েছি তেমনি পেয়েছি বন্ধুদের কাছ থেকে। আমার বাবা কবিতা লিখতেন। তিনি অনুবাদক ছিলেন। প্রবন্ধকার ছিলেন। আমার ভাইও কবিতা লিখতেন। মূলত বাবার কাছ থেকেই কবিতা লেখার প্রেরণা পাই।

প্রশ্ন : কবিতার বই প্রথম বের হলো কবে

উত্তর : আমার কবিতার বই ‘সেই মন নেই’ বের হয় ১৯৮৪ সালে। বইয়ের লেখক নাম আফরোজা বেগম।

প্রশ্ন : প্রথম কবিতা লেখার স্মৃতি, অনুভূতি ও প্রথম স্বীকৃতি পাওয়া – এসব নিয়ে  কিছু বলুন

উত্তর : প্রথম কবে কবিতা লিখেছি একথা তো বলতে পারব না। মনে নেই। তবে প্রথম কবিতা বের হওয়ার স্মৃতি সম্পর্কে বলতে পারি। সুখকর স্মৃতি। প্রথম কবিতা বের হয় দৈনিক ইত্তেফাকে। প্রথমে কাগজটা দেখিনি। কবিতা বের হওয়া কাগজটা নিয়ে আমার এক সুপিরিয়র এসে বললেন, কী ব্যাপার খুব যে মহিলা অঙ্গনে ঘোরাফেরা করছেন। আমি জবাব দিলাম মহিলা হলে তো মহিলা অঙ্গনেই থাকবো । উনি আমার জবাব শুনে হেসে বললেন, আপনার কবিতা বের হয়েছে কাগজে। ভালো লিখেছেন। বলার কথা নয় খুব ভালো লেগেছিল সে মূহুর্ত। কবি নাম হয়ে গেল অফিসে। এর পরে তো আমার কলিগ প্রদীপ কাঞ্চন অনেক কবিতা ছাপিয়েছে ওর পত্রিকায়। প্রদীপ কাঞ্চন এখন সুইডেন প্রবাসী। ওখানে ‘অনুশীলন’ নামে একটা পত্রিকা বের করে। ওর ওই পত্রিকাতেও লেখা ছাপছে এখনও।  কবিতা গল্প ছাপা হয় দীল্লির কিছু পত্রিকায়। কফি হাউজ পত্রিকাতেও আমার কবিতা বের হয়েছে। তবে এখন খুব একটা লেখা কোথও দেই না। দৈনিক জনকন্ঠে আমার নারী বিষয়ক প্রবন্ধ বের হওয়ার পরে ঐ লেখার উদ্ধৃতি দিয়েছে অনেকে মিটিং-এ, শুনেছি। ফতোয়া নামে একটি বইয়ে আমার একটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। এটা আমি মনে করি এটাও আমার স্বীকৃতি। ফতোয়া বইয়ে অবশ্য আমার লেখক নাম মঞ্জু আহমেদ।

প্রশ্ন : আপনার সৃষ্টিসম্ভার নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট আপনি ? যথার্থ মূল্যায়ন প্রসঙ্গে মতামত দিন

উত্তর : আমার তো মনে হয় কিছুই হয়নি। এতটা বছর শুধু হাঁটছি, হাঁটছি আর হাঁটছি। গন্তব্যে পৌঁছানো হয়নি। পারিনি পৌঁছাতে। মনে হয় একই জায়গায় রয়ে গেছি। মূল্যায়নের কথা বলছেন, মূল্যায়ন হয়েছে কি হয়নি সেটা তো আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে চিন্তা করিনি। আমার মন চায় আমি লিখি এই যা। এ আমার অভ্যাস। আর লেখার সঙ্গেই আমার প্রেম; লেখার সঙ্গেই আমার দৈনন্দিনের ঘর-বসতি। এই ঘর-বসতিতে হাঁটতে হাঁটতে প্রতিদিনই মনে হয় একটা বড় আবহে প্রবেশ করার জন্য এই মাত্র হাঁটতে শুরু করেছি।

 

প্রশ্ন : নানরকম আঙ্গিকের কবিতা আমরা পেয়েছি আপনার কাছ থেকে। বিশেষত হাইকু, তানকা, লিমেরিক ও দ্বিপদী কবিতা। ভিনদেশীয় আঙ্গিককে বাংলা কবিতায় ব্যবহার করা প্রসঙ্গে আপনার অভিজ্ঞতা ও ভাবনা চিন্তা নিয়ে বলুন

উত্তর : হাইকু, তানকা, লিমেরিক, দ্বিপদী এগুলো লিখতে ভালো লাগে। স্বাচ্ছন্দ্য বোধকরি। বিদেশি আঙ্গিকের কবিতাগুলো আমাকে বিশেষভাবে টানে কারণ অতি স্বল্পকথায় পুরো ভাব বুঝানো যায়। অনুভব করানো যায়। পরিবেশ, সৌন্দর্য, প্রেম অনুভূতি সব প্রকাশ করা যায় কয়েকটি লাইন কয়েকটি শব্দে। তবে আঙ্গিক যাই হোক সবই আমার নিজের মতো করে লিখি। বাংলাভাষা অতি সমৃদ্ধ ভাষা; অনুকরণ করা শোভা পায় না। অনুসরণ করা যায়, তবে গতিশীল রাখতে বাংলাভাষা-ই আমার কাছে প্রধান। বাংলা আমার মাতৃভাষা, প্রাণের ভাষা।

প্রশ্ন :  কবিতার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গীতিকবিতাও লিখেছেন। গান লেখার ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা ও ভাবনা নিয়ে কিছু বলুন।

উত্তর : কবিতা ও গান তো একই অঙ্গের দুই রূপ। কবিতার যেমন ব্যাকরণ আছে গানেরও তেমনি আছে। কবিতার ব্যাকরণ না মানলেও গানের ব্যাকরণ মানতে হয়। গান আমি খুব কম সময় ধরে লিখছি। আমার ছেলে মেয়ে গান শিখতো সে সময় আমি একটা গানের দল করতে চেয়েছিলাম। সেই থেকেই আমার গান লেখার শুরু। তবে গানের দল করা হয়ে ওঠেনি।  তবে তিন জনের কথায় যৌথ দুটি গানের সিডি বের হয়েছে ‘গানের পাখি’ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে। একটিতে আমার গানের কথার সুর করেছেন মান্নান মোহাম্মদ, অন্যটিতে করেছেন কবি সেলিম বালা। সেলিম বালা অবশ্য কমরেড আলাউদ্দিনের ওপরে লেখা আরও দুটি গানের সুর করেছেন।

প্রশ্ন : এবারে একুশে গ্রন্থমেলায় আপনার বই সম্পর্কে বলুন

উত্তর : বইয়ের পান্ডুলিপি আছে বেশ কয়েকটা। তবে ছাপা হয়েছে একটি। প্রবীণ বিষয়ক প্রবন্ধের বই। প্রবীণ- কথা ও জীবনাচার।  আর একটা সংকলন ও সম্পাদনার বই বের হয়েছে। কমরেড আলাউদ্দিন রচনা সমগ্র। দুটো বই-ই বের হয়েছে অ্যাডর্ন পাবলিকেশন থেকে।

ধন্যবাদ আপনাকে

আপনাকে..

 

 

 


About The Author

admin

সংবাদের ব্যাপারে আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাস করি।বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায়। আমাদের প্রত্যাশা একাত্তরের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশের পর্যায়ে।

Number of Entries : 7530

Leave a Comment

সম্পাদক : সুজন হালদার, প্রকাশক শিহাব বাহাদুর কতৃক ৭৪ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স, ২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ফোনঃ 02-9669617 e-mail: info@visionnews24.com
Design & Developed by Dhaka CenterNIC IT Limited
Scroll to top