The news is by your side.

আজিজ মুহাম্মদ ভাই ব্যাংককে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন!

0 7

 

 

রহস্য মানব হিসেবে পরিচিত আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়া ডন আজিজ মুহাম্মদ ভাই ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেলেন। দেশের জনপ্রিয় ও নন্দিত নায়ক সালমান শাহ, অভিনেত্রী দিতির স্বামী অভিনেতা সোহেল চৌধুরী সহ অসংখ্য খুনের আসামি আজিজ মোহাম্মদ ভাই এত অপরাধ করেও আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন।

আজিজ মোহাম্মদ ভাই। মূল নাম আজিজ মোহাম্মদ। ভাই তার বংশ পদবী। আজিজ মোহাম্মদ মূলত বাহাই সম্প্রদায়ের লোক। বাহাই শব্দটি পরবর্তী সময়ে ভাই এ রূপ নেয়। বাংলাদেশ বাহাই সম্প্রদায়ের দশ হাজার লোক রয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত-সালমান শাহ কে কেন খুন করেছিলেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই? সালমান শাহ্ ও তার এক সপ্তাহ আগে একটি পার্টিতে সালমান শাহ এর স্ত্রী সামিরাকে প্রকাশ্যে চুমু খেয়েছিলেন মাফিয়া ডন আজিজ মোহাম্মদ ভাই। সালমান শাহ বিষয়টি একদমই সহ্য করতে পারেননি। সঙ্গে সঙ্গে জনসমক্ষে থাপ্পড় মারেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই মাফিয়াকে। সেই শুরু। সেই পার্টিতে অভিনেত্রী শাবনূর ও তার মা উপস্থিত ছিলেন। তখনই ধারণা করা হচ্ছিল যে কোন দিন সালমান শাহকে হত্যা করা হতে পারে। এবং তাই হলো। অবশ্য বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল পুলিশ। অভিনেত্রী দিতির স্বামী অভিনেতা সোহেল চৌধুরী কেউ প্রকাশ্যে হত্যা করে আজিজ মোহাম্মদ ভাই।

এছাড়া এক পত্রিকার সম্পাদক কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এই মাফিয়া। তুলে নেয় তার কন্যাকে। যথারীতি এই হত্যাকাণ্ডটি কেউ হার্টঅ্যাটাক বলে চালিয়ে দেয়া হয়। সালমান শাহ, সোহেল চৌধুরী ছাড়াও আজিজ মোহাম্মদ ভাই যে কত মানুষকে হত্যা করেছে, কত মডেল অভিনেত্রী ।কে ধর্ষণ করেছে তার হিসেব নেই। অবশ্য এসব বিষয় নিয়ে নীরব থেকেছেন সবাই। নীরব রয়েছেন এখনো। কেন নীরব রয়েছেন? আজিজ মোহাম্মদ ভাই হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ এর আমলে একবার গ্রেপ্তার হন নারী কেলেঙ্কারির জন্য। বিশ্বের অন্যতম ধনী ও শিল্পপতি প্রিন্স আগা খান তাকে ছাড়িয়ে নেন। আজিজ মোহাম্মদ ভাই বর্তমানে অবস্থান করছেন থাইল্যান্ডের ব্যাংককে।

সেখানে তার রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি, অর্ধশতাধিক গাড়ি। আর নারী! যখন যাকে খুশি তাকেই ভোগ করেন প্রায় ৬০ বছর বয়সী এই মাফিয়া। বাংলাদেশ অলিম্পিক কোম্পানি সহ তার রয়েছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্ত্রী নওরিন মোহাম্মদ ভাই দেশে এসে মাঝে মাঝে এসব ব্যবসা দেখাশোনা করেন। আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ভাতিজা আমিন হুদা দেশের অন্যতম ইয়াবা সম্রাট হিসেবে পরিচিত। ২০১২ সালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। যে কথা বলছিলাম, আজিজ মোহাম্মদের এত অপরাধ নিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কিংবা অন্য কেউ মুখ খুলছেন না কেন? ব্যাংককের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বাংলাদেশের নামিদামি অনেক প্রযোজক পরিচালক নায়ক নায়িকা এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তির আর যখনই ব্যাংকক যান তখনই আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। তার স্ত্রী নওরিন মোহাম্মদ ভাইও যখন দেশে আসেন, তখন তথাকথিত নামিদামি পরিচালক নায়ক নায়িকাদের অর্থ প্রদান করেন।

সঙ্গত কারণেই চুপ মেরে আছেন সবাই। কথা হল, শুধু টাকা দিয়ে কি পার পেয়ে যাবেন রহস্য মানব হিসেবে পরিচিত দেশের সবচেয়ে বড় এই খুনি? তাহলে কি ধরে নেব টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি? তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার যে কোন সময়ে ব্যাংকক থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আজিজ মোহাম্মদ ভাই কে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনতে পারে। তবে তা কবে, নাগাদ সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যাচ্ছে না।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.